Science News

Science News বিজ্ঞান | প্রযুক্তি | মহাকাশ
সহজ ভাষায় নতুন জ্ঞান, প্রতিদিন।
(3)

পরমাণুর কেন্দ্রকে আমরা সাধারণত একটি ক্ষুদ্র গোলাকার গঠন হিসেবেই কল্পনা করি। কিন্তু প্রকৃতির এই অতি ক্ষুদ্র জগতেও সব নিউক...
24/08/2026

পরমাণুর কেন্দ্রকে আমরা সাধারণত একটি ক্ষুদ্র গোলাকার গঠন হিসেবেই কল্পনা করি। কিন্তু প্রকৃতির এই অতি ক্ষুদ্র জগতেও সব নিউক্লিয়াস একই রকম নয়। কিছু নিউক্লিয়াস প্রায় গোলাকার, আবার কিছু নিউক্লিয়াস প্রোটন ও নিউট্রনের বিন্যাসের কারণে গোলাকার আকৃতি থেকে বিচ্যুত হয়। এবার লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার বা LHC তে এমনই এক অস্বাভাবিক নিউক্লিয়াসের আকৃতির শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে। নিয়ন ২০ এর নিউক্লিয়াসের গঠন অনেকটা বোলিং পিনের মতো লম্বাটে হতে পারে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা এর কোনো সরাসরি ছবি তোলেননি। নিউক্লিয়াসের সংঘর্ষের পর ছিটকে বেরিয়ে আসা অসংখ্য কণার গতিবিধির মধ্যে লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম সংকেত বিশ্লেষণ করেই এই আকৃতির সন্ধান মিলেছে।

তবে কেন একটি নিউক্লিয়াস গোলাকার নাকি লম্বাটে, তা নিয়ে এত আগ্রহ? কারণ নিউক্লিয়াসের আকৃতি শুধু তার বাহ্যিক গঠনের বিষয় নয়। প্রোটন ও নিউট্রন কীভাবে নিউক্লিয়াসের ভেতরে সাজানো আছে, তার ওপর অত্যন্ত উচ্চ শক্তির সংঘর্ষের ফলও প্রভাবিত হতে পারে। সার্নের LHC তে অক্সিজেন ও নিয়ন নিউক্লিয়াসকে প্রায় আলোর গতিতে সংঘর্ষ করিয়ে বিজ্ঞানীরা সেই প্রভাব খুঁজেছেন। এই পরীক্ষার ফল তাঁদের পরমাণুর অতি ক্ষুদ্র জগত থেকে মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর দিকের পদার্থের বৈশিষ্ট্য বোঝার নতুন সুযোগ দিচ্ছে।

নিউক্লিয়াসের আকৃতি বোঝার গুরুত্ব বুঝতে হলে আগে জানতে হবে, এর ভেতরে কী রয়েছে। একটি পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন। এদের সমষ্টিকেই আমরা নিউক্লিয়াস বলি। সাধারণ অবস্থায় নিউক্লিয়াসের ভেতরে এই কণাগুলো প্রবল পারমাণবিক বলের মাধ্যমে আবদ্ধ থাকে। তাদের সংখ্যা এবং বিন্যাসের ওপর নিউক্লিয়াসের আকার ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ফলে নিউক্লিয়াসকে শুধু একটি ছোট গোলক হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত গঠন সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই জানেন যে সব নিউক্লিয়াস পুরোপুরি গোলাকার নয়। কিছু নিউক্লিয়াস লম্বাটে, আবার কিছুটা চ্যাপ্টা আকৃতির হতে পারে। এর পেছনে কাজ করে নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনের সম্মিলিত বিন্যাস এবং তাদের পারস্পরিক শক্তি। নিয়ন ২০ এর ক্ষেত্রেও তাত্ত্বিক গবেষণা আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে এর নিউক্লিয়াস উল্লেখযোগ্যভাবে বিকৃত হতে পারে। বিশেষ কিছু পারমাণবিক মডেলে এর আকৃতি অনেকটা বোলিং পিনের মতো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু তাত্ত্বিক হিসাবের সঙ্গে বাস্তব পরীক্ষার মিল কতটা, সেটিই ছিল বড় প্রশ্ন। কারণ এত ক্ষুদ্র কোনো নিউক্লিয়াসের আকৃতি সাধারণ কোনো ক্যামেরা দিয়ে দেখা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীদের তাই অন্য পদ্ধতি নিতে হয়েছে। LHC তে নিউক্লিয়াসগুলোকে অত্যন্ত উচ্চ শক্তিতে সংঘর্ষ করানো হয়। সংঘর্ষের মুহূর্তে নিউক্লিয়াসের গঠন কার্যত ভেঙে যায় এবং বিপুলসংখ্যক নতুন কণা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই কণাগুলো কীভাবে বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, তার মধ্যেই নিউক্লিয়াসের প্রাথমিক আকৃতির একটি পরোক্ষ ছাপ থেকে যায়।

এই পদ্ধতির মূল ধারণাটি বেশ সূক্ষ্ম। ধরুন, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া নিউক্লিয়াস পুরোপুরি গোলাকার নয়। তাহলে সংঘর্ষের সময় তার ভেতরের পদার্থও সবদিকে একইভাবে ছড়াবে না। সেই অসমতা শেষ পর্যন্ত উৎপন্ন কণাগুলোর গতিপথে প্রতিফলিত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বিপুলসংখ্যক সংঘর্ষের তথ্য একত্র করে কণাগুলোর প্রবাহে সেই নির্দিষ্ট বিন্যাস খুঁজে দেখেন। এরপর বিভিন্ন তাত্ত্বিক মডেলের পূর্বাভাসের সঙ্গে পরীক্ষার ফল তুলনা করা হয়।

এই গবেষণায় অক্সিজেন ১৬ এবং নিয়ন ২০ এর মতো হালকা নিউক্লিয়াস বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে LHC তে সীসার মতো ভারী নিউক্লিয়াসের সংঘর্ষ ব্যবহার করে কোয়ার্ক গ্লুয়ন প্লাজমা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। কোয়ার্ক গ্লুয়ন প্লাজমা হলো এমন এক অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন পদার্থ, যেখানে প্রোটন ও নিউট্রনের ভেতরে সাধারণত আবদ্ধ থাকা কোয়ার্ক ও গ্লুয়ন অল্প সময়ের জন্য অনেক বেশি মুক্তভাবে আচরণ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের জন্মের কয়েক মাইক্রোসেকেন্ড পর এমন পদার্থই বিরাজ করেছিল।

তবে ভারী নিউক্লিয়াসের সংঘর্ষে একটি জটিলতা থাকে। সংঘর্ষের পর কণাগুলোর যে সম্মিলিত প্রবাহ দেখা যায়, তার কতটা এসেছে নিউক্লিয়াসের প্রাথমিক আকৃতি থেকে আর কতটা এসেছে তৈরি হওয়া কোয়ার্ক গ্লুয়ন প্লাজমার আচরণ থেকে, তা আলাদা করা কঠিন হতে পারে। হালকা নিউক্লিয়াস ব্যবহার করলে এই প্রশ্নটি আরও পরিষ্কারভাবে পরীক্ষা করা যায়। তাই অক্সিজেন ও নিয়নের মতো নিউক্লিয়াস নিয়ে পরীক্ষা বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নতুন পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এমন কণাপ্রবাহের সংকেত পেয়েছেন, যা নিয়ন ২০ এর বিকৃত আকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে নিয়ন ও অক্সিজেনের সংঘর্ষের ফলের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা গেছে, তা নিউক্লিয়াসের নিজস্ব জ্যামিতির প্রভাবের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের আকার শুধু তাত্ত্বিক মডেলের বিষয় নয়, তার প্রভাব সংঘর্ষের পর তৈরি হওয়া কণার গতিতেও ধরা পড়তে পারে।

এই ফলের পেছনে আগের গবেষণারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন নিউক্লিয়ার মডেল ব্যবহার করে আগে হিসাব করেছিলেন, নিয়ন ২০ এর মতো বিকৃত নিউক্লিয়াস সংঘর্ষে কী ধরনের কণাপ্রবাহ তৈরি করতে পারে। নতুন পরীক্ষার তথ্য সেই পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য দেখিয়েছে। ফলে নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরীণ গঠন এবং উচ্চ শক্তির সংঘর্ষে তৈরি হওয়া পদার্থের আচরণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে এটিকে নিয়ন নিউক্লিয়াসের সরাসরি ছবি বলা যাবে না। বোলিং পিনের সঙ্গে তুলনাটি আসলে নিউক্লিয়াসের জ্যামিতিক গঠন বোঝানোর একটি সহজ উপায়। গবেষকেরা সংঘর্ষের পর বেরিয়ে আসা কণার পরিসংখ্যানগত প্রবাহ বিশ্লেষণ করেছেন এবং সেই ফলকে নিউক্লিয়ার গঠনের তাত্ত্বিক মডেলের সঙ্গে মিলিয়েছেন। তাই এখানে প্রমাণটি পরোক্ষ, যদিও তা গুরুত্বপূর্ণ এবং পূর্ববর্তী তাত্ত্বিক হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই গবেষণা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে। নিউক্লিয়াসের প্রাথমিক আকৃতি যদি সংঘর্ষের পর তৈরি হওয়া পদার্থের আচরণকে এতটা প্রভাবিত করতে পারে, তাহলে বিভিন্ন আকৃতির নিউক্লিয়াস ব্যবহার করে কোয়ার্ক গ্লুয়ন প্লাজমার বৈশিষ্ট্য কতটা নিখুঁতভাবে বোঝা সম্ভব? ভবিষ্যতে বিভিন্ন হালকা নিউক্লিয়াসের সংঘর্ষ তুলনা করে বিজ্ঞানীরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পারেন। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে নিউক্লিয়াসের গঠন এবং মহাবিশ্বের আদিম অবস্থায় থাকা অতি উত্তপ্ত পদার্থ সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরমাণুর কেন্দ্র কোনো স্থির, নিখুঁত গোলক নয়। তার ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনের বিন্যাস অত্যন্ত জটিল এবং সেই গঠনকে বোঝার জন্য বিজ্ঞানীদের কখনও কখনও নিউক্লিয়াসের সরাসরি দেখা নয়, বরং তার সংঘর্ষের পর ছড়িয়ে পড়া কণার আচরণ পড়তে হয়। নিয়ন ২০ এর বোলিং পিনের মতো আকৃতির এই প্রমাণ তাই শুধু একটি অদ্ভুত জ্যামিতির সন্ধান নয়। এটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসের গঠন কীভাবে মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন পদার্থের আচরণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সেই অনুসন্ধানেরও একটি নতুন ধাপ।

তথ্যসূত্র : CERN ও ATLAS Collaboration, 2025; LHCb Collaboration, arXiv:2509.12399.

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে একটি ছোট স্টার্টআপের মূল্য ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাওয়া প্রযুক্তি দুনিয়ায় বিরল ঘটনা। আরও বিস্ময়...
24/08/2026

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে একটি ছোট স্টার্টআপের মূল্য ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাওয়া প্রযুক্তি দুনিয়ায় বিরল ঘটনা। আরও বিস্ময়কর হলো, এর পেছনে থাকা চার সহপ্রতিষ্ঠাতা তখনও ত্রিশে পৌঁছাননি। MIT থেকে পড়াশোনা করার সময় তাঁরা যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তার প্রথম ধারণা সফল হয়নি। কিন্তু সেই ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের এমন এক প্রযুক্তির দিকে নিয়ে যায়, যা সফটওয়্যার তৈরির পদ্ধতিকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

২০২২ সালে Michael Truell, Sualeh Asif, Aman Sanger এবং Arvid Lunnemark MIT-তে পড়ার সময় Anysphere প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের প্রথম দিকের লক্ষ্য ছিল যন্ত্রপ্রকৌশলীদের জন্য AI ভিত্তিক সহকারী তৈরি করা। উদ্যোগটি প্রত্যাশামতো এগোয়নি। এরপর তাঁরা দিক বদলে AI দিয়ে সফটওয়্যার লেখার সমস্যায় মন দেন। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই তৈরি হয় Cursor, যা পরে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল AI coding tools-এর একটি হয়ে ওঠে।

কিন্তু Cursor আসলে কী করছে? একজন প্রোগ্রামারকে সফটওয়্যার তৈরি করতে শুধু কোড লিখলেই হয় না। পুরোনো কোড বুঝতে হয়, ভুল খুঁজতে হয়, নতুন ফিচার যোগ করতে হয় এবং অনেক সময় হাজার হাজার লাইনের কোড একসঙ্গে পরিবর্তন করতে হয়। Cursor এসব কাজে AI ব্যবহার করে। শুরুতে এটি মূলত পরের কয়েকটি লাইন কোড অনুমান করে লিখে দিত। পরে প্রযুক্তিটি এমন পর্যায়ে যায়, যেখানে AI agent বা স্বয়ংক্রিয় সহকারীকে অপেক্ষাকৃত জটিল সফটওয়্যার তৈরির কাজও দেওয়া যায়।

এই পরিবর্তনের পেছনে ছিল AI মডেলের দ্রুত অগ্রগতি। বড় ভাষা মডেলগুলো মানুষের ভাষার পাশাপাশি প্রোগ্রামিং ভাষার কাঠামোও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হওয়ায় কম্পিউটারকে শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য দিয়ে সফটওয়্যার তৈরির কাজ করানোও সম্ভব হচ্ছে। Cursor সেই ক্ষমতাকে সরাসরি ডেভেলপারের কাজের পরিবেশে নিয়ে এসেছে।

এর ফল ছিল দ্রুত ব্যবসায়িক বিস্তার। ২০২৪ সালের শেষ দিকে Anysphere-এর মূল্যায়ন প্রায় ২.৫ থেকে ২.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের জুনে ৯.৯ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের Series C অর্থায়ন সম্পন্ন হয়। একই বছরের নভেম্বরে আরও ২.৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের পর কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ২৯.৩ বিলিয়ন ডলার।

এরপর সামনে আসে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নত AI তৈরি করতে বিপুল কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন, বিশেষ করে GPU। ২০২৬ সালের এপ্রিলে SpaceX-এর সঙ্গে মডেল প্রশিক্ষণ নিয়ে Cursor-এর অংশীদারত্ব শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৪ আগস্ট Cursor জানায়, SpaceX তাদের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। Cursor বলেছে, SpaceX-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে তারা বিশ্বের বৃহত্তম GPU বহরের সুবিধা পাবে এবং আরও শক্তিশালী ও তুলনামূলক কম খরচের AI মডেল তৈরির সুযোগ পাবে।

এই অধিগ্রহণের মূল্য ৬০ বিলিয়ন ডলার বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংখ্যাটির তাৎপর্য শুধু চার তরুণ উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, AI-এর পরবর্তী প্রতিযোগিতা শুধু কে সবচেয়ে ভালো মডেল তৈরি করবে তা নিয়ে নয়। সেই মডেলকে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং শক্তি দিয়ে বাস্তব সফটওয়্যার তৈরির কাজে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Cursor-এর সামনে অবশ্য সীমাবদ্ধতাও আছে। AI agent এখনও সব ধরনের সফটওয়্যার উন্নয়নে মানুষের বিকল্প নয়, এবং জটিল কোডে ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ফলের ঝুঁকি থাকে। তবু একটি ব্যর্থ প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে AI ভিত্তিক সফটওয়্যার নির্মাণের নতুন পর্যায়ে পৌঁছানোর এই অগ্রগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে প্রোগ্রামাররা শুধু কোড লিখবেন না, বরং AI সহকারীকে কাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়ে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অনেকটা অংশ পরিচালনা করবেন, এমন সম্ভাবনাই এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: Times of India; Cursor; Forbes; Axios।

ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা নতুন নয়। কিন্তু কঠিন বা সলিড টিউমারের ক্ষেত্রে এ...
24/08/2026

ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা নতুন নয়। কিন্তু কঠিন বা সলিড টিউমারের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা থেকেই গেছে। টিউমার শুধু দ্রুত বাড়ে না, তার চারপাশের পরিবেশ এমনভাবে বদলে দেয় যে প্রতিরোধী কোষের পক্ষে সেখানে ঢোকা এবং কার্যকরভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের প্রাকৃতিক ঘাতক কোষ তৈরি করেছেন, যা এই প্রতিরোধ অতিক্রম করে টিউমারের ভেতরে পৌঁছাতে পারে।

স্ট্যানফোর্ড মেডিসিন ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা মানুষের রক্ত থেকে নেওয়া ন্যাচারাল কিলার বা NK কোষকে বিশেষভাবে পরিবর্তিত করেছেন। এই কোষগুলো শরীরের এমন প্রতিরোধী কোষ, যা ক্যানসার কোষ বা ভাইরাসে আক্রান্ত কোষকে দ্রুত শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। নতুন গবেষণায় এগুলোকে এমন এক বিশেষ রূপ দেওয়া হয়েছে, যা টিস্যুর ভেতরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে লড়াই করতে পারে। ইঁদুরের পরীক্ষায় এই কোষ কয়েক ধরনের সলিড টিউমারে ঢুকে তাদের বৃদ্ধি ধীর করেছে।

NK কোষ নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ১৯৭০ এর দশকে। এতদিন বিজ্ঞানীরা প্রধানত রক্তে ঘুরে বেড়ানো প্রতিরোধী কোষের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে থাকা NK কোষের আচরণ যে আলাদা হতে পারে, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়েছে। কিছু টিস্যুতে তারা প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া কমিয়ে দেয়, আবার অন্য পরিবেশে শক্তিশালী ক্যানসারবিরোধী ভূমিকা নিতে পারে। প্রশ্ন ছিল, এই দুই ধরনের আচরণের পার্থক্য কোথায়।

স্ট্যানফোর্ডের জন সানউয়ের নেতৃত্বে গবেষকেরা দেখেন, এখানে TGF beta নামের একটি সংকেত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোষের আচরণ ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে এবং টিউমারও এটি তৈরি করতে পারে। কিন্তু এর মাত্রাই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি TGF beta NK কোষকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। আবার সঠিক মাত্রায় অল্প সময়ের জন্য এই সংকেত পেলে কোষগুলো টিস্যুতে বসবাসের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে এবং শক্তিশালী ঘাতক কোষে পরিণত হয়।

গবেষকেরা আরও দেখতে পান, কার্যকর কোষগুলোর গায়ে CD39, CD49a ও CD103 নামের নির্দিষ্ট প্রোটিন থাকে। তাদের মধ্যে কোষ ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় perforin ও granzyme A এর পরিমাণও বেশি। পরীক্ষাগারে তৈরি টিউমার কাঠামো এবং ইঁদুরের শরীরে এসব কোষ টিউমারের ভেতরে প্রবেশ করে বৃদ্ধি ধীর করে।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ফল আসে cetuximab নামের একটি অ্যান্টিবডির সঙ্গে এই NK কোষ ব্যবহার করলে। অ্যান্টিবডিটি ক্যানসার কোষকে NK কোষের কাছে আরও সহজে শনাক্তযোগ্য করে তোলে। এক মাসের পরীক্ষায় যৌথ চিকিৎসা একক চিকিৎসার তুলনায় টিউমার নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর ছিল।

তবে এটি এখনো মানুষের চিকিৎসা নয়। গবেষণাটি মূলত ইঁদুরে ধারণাটির কার্যকারিতা দেখিয়েছে। গবেষকেরা উন্নত স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমায় এই সমন্বিত চিকিৎসার প্রথম ধাপের মানব পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফল হলে আরেকটি সুবিধা হতে পারে, একজন দাতার NK কোষ থেকে প্রায় দুই সপ্তাহে প্রায় ২০টি চিকিৎসার ডোজ তৈরি করে সেগুলো হিমায়িত করে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা। ফলে ব্যক্তিভেদে আলাদা করে কোষ তৈরি করার প্রয়োজন কমতে পারে। কিন্তু মানুষের শরীরে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা প্রমাণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পরীক্ষা।

তথ্যসূত্র : ScienceDaily.

মহাবিশ্বের দিকে তাকালে একটি বৈশিষ্ট্য বারবার চোখে পড়ে। পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরছে, সূর্যও ঘূর্ণায়মান, গ্রহ ও বহু উপগ্রহে...
24/08/2026

মহাবিশ্বের দিকে তাকালে একটি বৈশিষ্ট্য বারবার চোখে পড়ে। পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরছে, সূর্যও ঘূর্ণায়মান, গ্রহ ও বহু উপগ্রহের নিজস্ব ঘূর্ণন রয়েছে। এমনকি দূরের নক্ষত্র এবং নিউট্রন তারার মতো অত্যন্ত ঘন মহাজাগতিক বস্তুও নিজেদের অক্ষে ঘোরে। কিন্তু তাদের এই ঘূর্ণনের শুরু কোথায়? মহাকাশে তো কেউ বাইরে থেকে এসে এসব বস্তুকে ঘুরিয়ে দেয়নি। তাহলে মহাবিশ্বের এত জ্যোতিষ্কের মধ্যে ঘূর্ণন এল কীভাবে?

এর উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা ফিরে যান জ্যোতিষ্কের জন্মের সময়ে। NASA এবং অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ ও তাত্ত্বিক গবেষণা দেখায়, একটি নক্ষত্র বা গ্রহ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই তার জন্মের উপাদান গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘের মধ্যে নানা ধরনের গতি থাকে। সেই মেঘ নিজের মহাকর্ষের টানে সংকুচিত হতে শুরু করলে তার সামান্য ঘূর্ণনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানেই কাজ করে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নীতি, কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ।

কৌণিক ভরবেগকে সহজভাবে বলা যায়, কোনো বস্তু কতটা ঘূর্ণনগত গতি বহন করছে তার একটি পরিমাপ। কোনো বাহ্যিক টর্ক, অর্থাৎ ঘূর্ণন পরিবর্তনকারী বল কাজ না করলে এই পরিমাণ সহজে বদলে যায় না। ফলে কোনো ঘূর্ণায়মান গ্যাসের মেঘ যখন সংকুচিত হয়ে ছোট হতে থাকে, তখন তার ভর ঘূর্ণনের কেন্দ্রের কাছে চলে আসে এবং ঘূর্ণনের গতি বেড়ে যায়। বরফের ওপর ঘূর্ণায়মান একজন স্কেটার হাত শরীরের কাছে টেনে নিলে যেমন দ্রুত ঘুরতে শুরু করেন, বিষয়টি অনেকটা তেমন।

তবে নক্ষত্রের ঘূর্ণনের উৎস শুধু সংকোচন নয়। মহাজাগতিক গ্যাসের মেঘ কখনো সম্পূর্ণ নিখুঁতভাবে স্থির থাকে না। মেঘের বিভিন্ন অংশের গতি, একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং আশপাশের বস্তুর মহাকর্ষীয় প্রভাব মিলিয়ে সামান্য ঘূর্ণন তৈরি হতে পারে। সংকোচনের সময় সেই ঘূর্ণন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নক্ষত্রের জন্মের ক্ষেত্রে এই ঘূর্ণায়মান পদার্থ থেকে একটি চ্যাপ্টা চাকতির মতো কাঠামোও তৈরি হতে পারে, যাকে protoplanetary disk বলা হয়। পরবর্তীতে এই চাকতির পদার্থ থেকেই গ্রহ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। কোনো গ্রহ বা নক্ষত্র একবার ঘুরতে শুরু করার পর থামে না কেন? এর কারণ হলো মহাশূন্যে পৃথিবীর মতো বায়ুজনিত ঘর্ষণ নেই। ফলে ঘূর্ণনের শক্তি দ্রুত হারিয়ে যাওয়ার সুযোগও কম। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো জ্যোতিষ্ক চিরকাল একই গতিতে ঘুরবে। সংঘর্ষ, জোয়ারীয় প্রভাব এবং অন্য মহাজাগতিক বস্তুর মহাকর্ষ তার ঘূর্ণনের গতি ও অক্ষের দিক পরিবর্তন করতে পারে। পৃথিবীর ক্ষেত্রেও চাঁদের মহাকর্ষ তার ঘূর্ণনকে অত্যন্ত ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।

এই ঘূর্ণন শুধু একটি দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস। কোনো নক্ষত্র কত দ্রুত ঘোরে, তার ঘূর্ণন অক্ষ কীভাবে অবস্থান করছে এবং সময়ের সঙ্গে সেই গতি কীভাবে বদলাচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা তার বয়স, অভ্যন্তরীণ গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পান। একইভাবে গ্রহের ঘূর্ণন তার বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহ, দিনরাত্রির দৈর্ঘ্য এবং জলবায়ুতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞানের ইতিহাসে ঘূর্ণন বোঝার ক্ষেত্রে নিউটনের গতির সূত্র ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পরে কৌণিক ভরবেগের ধারণা স্পষ্ট করে দেয়, কোনো বস্তু ঘুরছে বলে তাকে ক্রমাগত কোনো অদৃশ্য শক্তি ঠেলে যেতে হবে না। বরং তার ঘূর্ণন একবার প্রতিষ্ঠিত হলে, বাহ্যিক প্রভাব না থাকলে সেই গতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

তবে বিজ্ঞানীরা এখনও প্রতিটি মহাজাগতিক বস্তুর ঘূর্ণনের ইতিহাস একেবারে নিখুঁতভাবে জানেন না। একটি নক্ষত্রের জন্মের সময় তার প্রাথমিক ঘূর্ণন কতটা ছিল, গ্রহ গঠনের সময় সংঘর্ষগুলো কীভাবে সেই ঘূর্ণন বদলেছে এবং বিভিন্ন মহাজাগতিক পরিবেশে ঘূর্ণন কীভাবে বিবর্তিত হয়, এসব নিয়ে গবেষণা চলছে। তাই আকাশের প্রতিটি ঘূর্ণায়মান জ্যোতিষ্ক শুধু একটি চলমান বস্তু নয়। তার ঘূর্ণনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে জন্মের সময়কার গতি, মহাকর্ষের প্রভাব এবং কোটি কোটি বছরের মহাজাগতিক বিবর্তনের একটি পদার্থবৈজ্ঞানিক রেকর্ড।

তথ্যসূত্র: NASA Science, From Cloud to Disk; Hubble’s Album of Planet Forming Disks; How Do Planets Form?

© উপম বিকাশ | পেইজ এডমিন

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষগুলো কেন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই মাইটোকন্ড্রিয়ার দিক...
23/08/2026

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষগুলো কেন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই মাইটোকন্ড্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছেন। কোষের ভেতরের এই ক্ষুদ্র অঙ্গাণুগুলো শক্তি তৈরির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বয়সের সঙ্গে তাদের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে ঠিক কোন পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ, তা এতদিন পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল না। নতুন গবেষণা সেই রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচন করেছে। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই পরিবর্তন পুরোপুরি অপরিবর্তনীয় নাও হতে পারে।

জার্মানির Leibniz Institute on Aging এর গবেষক এরমোলায়েভা ও তাঁর সহকর্মীরা Nature Communications এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখিয়েছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে মাইটোকন্ড্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝিল্লি উপাদান ফসফাটিডাইলকোলিন তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। এই উপাদানটি মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন ও নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে এর ঘাটতি হলে মাইটোকন্ড্রিয়া প্রয়োজন অনুযায়ী একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং নিজেদের গঠন বদলানোর ক্ষমতা হারাতে থাকে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? মাইটোকন্ড্রিয়া ঠিকভাবে কাজ না করলে কোষের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর প্রভাব ধীরে ধীরে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পড়ে এবং বয়সজনিত বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ, বার্ধক্যের সঙ্গে মাইটোকন্ড্রিয়ার দুর্বলতার সম্পর্ক শুধু শক্তি উৎপাদনের ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর গঠনগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল এসেছে এই পরিবর্তনকে উল্টে দেওয়ার পরীক্ষায়। বিজ্ঞানীরা বয়স্ক C. elegans নামের ক্ষুদ্র কৃমি এবং চাপের মধ্যে থাকা মানব কোষে ফসফাটিডাইলকোলিন অথবা এর পূর্বধাপ কোলিন প্রয়োগ করেন। এতে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন ও কার্যক্ষমতায় তরুণ অবস্থার মতো কিছু বৈশিষ্ট্য ফিরে আসে।

তবে এখানেই সতর্ক থাকা জরুরি। মানুষের শরীরে কোলিন বা ফসফাটিডাইলকোলিন গ্রহণ করলেই বয়স কমে যাবে, এমন কোনো প্রমাণ এই গবেষণা দেয়নি। পরীক্ষাটি এখনো কোষ ও প্রাণী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। তবে এর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। বার্ধক্যের সঙ্গে মাইটোকন্ড্রিয়ার পরিবর্তন যদি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বয়সজনিত রোগ বিলম্বিত করার জন্য নির্দিষ্ট জৈবিক পথকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বার্ধক্যকে শুধু সময়ের অনিবার্য ফল হিসেবে না দেখে তার কিছু জৈবিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না, এই গবেষণা সেই প্রশ্নটিকেই আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনছে।

source: Ermolaeva, M., et al. (2026). Aging-associated decline of phosphatidylcholine synthesis is a malleable trigger of natural mitochondrial aging. Nature Communications.

ইস্টার আইল্যান্ডের পাথরের বিশাল মূর্তিগুলো বহু বছর ধরে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রচলিত ধার...
23/08/2026

ইস্টার আইল্যান্ডের পাথরের বিশাল মূর্তিগুলো বহু বছর ধরে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রচলিত ধারণা ছিল, রাপানুই জনগণ নিজেদের দ্বীপের বন উজাড় করে, মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং বিপুল পরিমাণ শ্রম মূর্তি নির্মাণে ব্যয় করে শেষ পর্যন্ত নিজেদের সমাজকে ধ্বংস করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং স্যাটেলাইট জরিপ সেই পরিচিত ব্যাখ্যার ভিতেই প্রশ্ন তুলেছে। তাহলে কি ইস্টার আইল্যান্ডের পতন ঘটেনি তাদের নিজেদের পরিবেশ ধ্বংসের কারণে?

নতুন গবেষণাগুলো বরং দেখাচ্ছে, রাপানুই জনগণ ছিল কঠিন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম এক সমাজ। প্রায় ১২০০ খ্রিস্টাব্দে পলিনেশীয় নাবিকেরা প্রশান্ত মহাসাগরের এই অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন দ্বীপে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে। দ্বীপটিতে বৃষ্টিপাত ছিল অনিয়মিত, মাটি ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং বড় গাছের অভাব ছিল। তবু কয়েক শতাব্দী ধরে তারা কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা এবং পাথর ব্যবহারের নানা কৌশল তৈরি করে টিকে ছিল। অর্থাৎ, যে সমাজকে একসময় পরিবেশ ধ্বংসের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হতো, তার ইতিহাস হয়তো আসলে অভিযোজন ও টিকে থাকার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

প্রচলিত ধারণার বড় ভিত্তি ছিল দ্বীপটির বন উজাড় হয়ে যাওয়া। স্থানীয় তালগাছের একটি প্রজাতি একসময় সেখানে প্রচুর ছিল, পরে তা বিলুপ্ত হয়। কিন্তু গবেষকরা এখন মনে করছেন, এর জন্য শুধু মানুষের ওপর দায় চাপানো ঠিক নয়। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণে দেখা গেছে, পলিনেশীয় ইঁদুরও তালগাছের বীজ খেয়ে নতুন গাছ জন্মাতে বাধা দিত। মানুষের কৃষিকাজ, ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা তালগাছ এবং ইঁদুরের ব্যাপক বিস্তার একসঙ্গে বনভূমির পুনর্জন্ম কঠিন করে তুলেছিল।

বন কমে যাওয়ার পরও রাপানুইরা কৃষি বন্ধ করেনি। তারা মাটির ওপর পাথর ছড়িয়ে বিশেষ ধরনের কৃষিব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যাকে লিথিক মালচিং বলা হয়। পাথর মাটিতে প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ যোগ করত, একই সঙ্গে আর্দ্রতা ধরে রাখত এবং ক্ষয় কমাত। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এমন পাথরের বাগানে আশপাশের মাটির তুলনায় বেশি পুষ্টি পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। দ্বীপের জলসংকট মোকাবিলায় তারা বাঁধ, জলাধার ও জল প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও তৈরি করেছিল।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল বিশাল মোয়াই মূর্তি কীভাবে পরিবহন করা হয়েছিল। একসময় ধারণা করা হতো, এগুলো সরাতে বিপুল পরিমাণ কাঠ প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু গবেষক কার্ল লিপো ও টেরি হান্ট দেখিয়েছেন, দড়ি ব্যবহার করে মূর্তিগুলোকে দাঁড় করিয়ে সামনে পিছনে দোলানোর মাধ্যমে হাঁটিয়ে নেওয়া সম্ভব। ৪.৩৫ টন ওজনের একটি প্রতিরূপ মাত্র ১৮ জন মানুষ ১০০ মিটার পর্যন্ত সরাতে পেরেছিলেন। ফলে মূর্তি নির্মাণই যে দ্বীপের পরিবেশ ধ্বংসের প্রধান কারণ ছিল, সেই ধারণাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ এসেছে প্রাচীন ডিএনএ থেকে। ২০২৪ সালে জে. ভিক্টর মোরেনো মায়ার ও তাঁর সহকর্মীরা ১৫ জন প্রাচীন রাপানুই মানুষের জিনোম বিশ্লেষণ করেন। যদি ইউরোপীয় আগমনের আগে সত্যিই ভয়াবহ জনসংখ্যা ধস ঘটত, তবে জিনগত বৈচিত্র্যে তার স্পষ্ট চিহ্ন থাকার কথা। কিন্তু সেই প্রত্যাশিত সংকেত পাওয়া যায়নি। বরং গবেষণার মডেল ইঙ্গিত দেয়, জনসংখ্যা কয়েক শতাব্দী ধরে ধীরে বেড়েছিল এবং বিপুল আকার ধারণ করেনি।

তাহলে রাপানুই সমাজের ভয়াবহ পতন ঘটল কখন? ইউরোপীয় যোগাযোগের পর। ১৭২২ সালে ডাচ নাবিক জ্যাকব রোগেভিন দ্বীপে পৌঁছানোর সময়ই তাঁর নাবিকেরা গুলি চালিয়ে কয়েকজন রাপানুইকে হত্যা করে। পরবর্তী শতাব্দীতে রোগ ছড়ায়, মানুষ অপহৃত হয়ে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ১৮৮৮ সালে চিলি দ্বীপটি অধিগ্রহণ করে। পরে বৃহৎ অংশে ভেড়ার খামার গড়ে ওঠে এবং রাপানুইদের নিজেদের ভূমি থেকে সরিয়ে হাঙ্গা রোয়া এলাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়। ১৮৭০ এর দশকে তাদের সংখ্যা নেমে এসেছিল প্রায় একশতে।

এই প্রমাণগুলো তাই ইস্টার আইল্যান্ডকে শুধু পরিবেশ ধ্বংসের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ কমিয়ে দেয়। রাপানুইরা কঠিন পরিবেশকে বদলে দেওয়ার পাশাপাশি তার সঙ্গে মানিয়েও নিয়েছিল। তাদের ইতিহাসে পরিবেশগত চাপ ছিল, কিন্তু ভয়াবহ জনসংখ্যা ধসের প্রধান কারণ হিসেবে তার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে পরবর্তী ঔপনিবেশিক শোষণ, রোগ ও জোরপূর্বক শ্রম। অতীতের এই পুনর্মূল্যায়ন তাই শুধু একটি দ্বীপের ইতিহাস সংশোধন করছে না; একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণকে মানুষের বিরুদ্ধে কোনো সহজ নৈতিক রায় দেওয়ার আগে আরও সতর্কভাবে পড়তে হয়।

তথ্যসূত্র: Scientific American, 18 আগস্ট 2026; Nature, 2024; Journal of Archaeological Science, 2025.

23/08/2026
 # ব্ল্যাক হোল বম্ব কি সত্যিই সম্ভবব্ল্যাক হোলকে আমরা সাধারণত এমন এক মহাজাগতিক বস্তু হিসেবে জানি, যার মহাকর্ষ এত শক্তিশা...
23/08/2026

# ব্ল্যাক হোল বম্ব কি সত্যিই সম্ভব

ব্ল্যাক হোলকে আমরা সাধারণত এমন এক মহাজাগতিক বস্তু হিসেবে জানি, যার মহাকর্ষ এত শক্তিশালী যে তার কাছ থেকে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে আরও অদ্ভুত একটি সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন। একটি ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোলের কাছ থেকে তার ঘূর্ণনের শক্তি বের করে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। আর সেই শক্তি যদি কোনোভাবে ব্ল্যাক হোলের চারপাশে আটকে রাখা যায়, তাহলে তা ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে একসময় প্রবল অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই তাত্ত্বিক ঘটনাকেই বলা হয় ‘ব্ল্যাক হোল বম্ব’। নামটি বিস্ফোরক শোনালেও এটি কোনো প্রচলিত বোমা নয়।

এই ধারণার শিকড় ১৯৬০ ও ১৯৭০ এর দশকের গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, ঘূর্ণায়মান কোনো অত্যন্ত শক্তিশালী বস্তুর কাছ থেকে নির্দিষ্ট ধরনের তরঙ্গ শক্তি নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সুপাররেডিয়েন্স’। ১৯৭১ সালে পদার্থবিজ্ঞানী রজার পেনরোজ দেখিয়েছিলেন, ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল থেকে শক্তি নেওয়ার একটি উপায় তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব। পরে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, যদি ব্ল্যাক হোলের চারপাশে তরঙ্গ আটকে রাখা যায়, তাহলে একই প্রক্রিয়া বারবার ঘটতে পারে।

এখানেই আসে ‘বম্ব’ ধারণাটি। ধরুন, একটি তরঙ্গ ব্ল্যাক হোলের কাছে গেল। ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল সেই তরঙ্গে কিছু শক্তি যোগ করে দিল। এরপর কোনো প্রতিফলক ব্যবস্থা তরঙ্গটিকে আবার ব্ল্যাক হোলের দিকে পাঠিয়ে দিল। দ্বিতীয়বারও তরঙ্গ আরও শক্তি পেল। এভাবে প্রতিবার তরঙ্গের শক্তি বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। অনেকটা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে শক্তি কমার বদলে প্রতিটি চক্রে আরও শক্তি জমা হচ্ছে।

কিন্তু মহাকাশে ব্ল্যাক হোলের চারপাশে এমন বিশাল আয়না বসানো সম্ভব নয়। তাই বাস্তব ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ঘটবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। এখানেই অতি হালকা কণার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অ্যাক্সিয়নের মতো কাল্পনিক কণার ভর অত্যন্ত কম হলে তারা ব্ল্যাক হোলের চারপাশে আটকে থাকতে পারে। তখন তাদের একটি অংশ বারবার ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি অবস্থান করে এবং সুপাররেডিয়েন্সের মাধ্যমে শক্তি পেতে পারে। এ কারণে ব্ল্যাক হোলের ঘূর্ণন ব্যবহার করে এমন অজানা কণার অস্তিত্ব খোঁজার সম্ভাবনাও বিজ্ঞানীদের আগ্রহের বিষয়।

এই ধারণা শুধু তাত্ত্বিক হিসাবেই আটকে নেই। ২০২৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদ্যাম্পটন, ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো এবং ইতালির ইনস্টিটিউট ফর ফোটোনিক্স অ্যান্ড ন্যানোটেকনোলজির গবেষকেরা পরীক্ষাগারে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরূপ তৈরি করেন। তাঁরা একটি ঘূর্ণায়মান ধাতব সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। সিলিন্ডারটি নির্দিষ্ট গতিতে ঘোরার সময় তার চারপাশের তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ থেকে শক্তি নেওয়ার মতো একটি প্রক্রিয়া দেখা যায়। গবেষকেরা দেখেন, খুব ক্ষীণ শব্দ থেকেও তরঙ্গ তৈরি হয়ে তার শক্তি দ্রুত বাড়তে পারে।

তবে এই পরীক্ষাকে কোনোভাবেই আসল ব্ল্যাক হোল বম্ব তৈরি বলা যাবে না। বিজ্ঞানীরা এখানে ব্ল্যাক হোল ব্যবহার করেননি। তাঁরা শুধু ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রে যে ধরনের শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ঘটতে পারে, তার একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগার সংস্করণ তৈরি করেছেন। অর্থাৎ বহু বছর ধরে তাত্ত্বিকভাবে আলোচিত একটি ধারণাকে বাস্তব পরীক্ষায় যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর ভবিষ্যৎ গুরুত্বও তাই যথেষ্ট। এই গবেষণা শুধু অদ্ভুত একটি মহাজাগতিক ঘটনার সম্ভাবনা বোঝার জন্য নয়, ব্ল্যাক হোল কীভাবে তার ঘূর্ণনের শক্তি পরিবেশে ছড়ায় এবং মহাবিশ্বে এখনো অজানা কোনো কণা রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের নতুন পথ খুলে দিতে পারে। তবে প্রকৃত ব্ল্যাক হোলের মধ্যে এমন অস্থিরতা সত্যিই ঘটে কি না, তার সরাসরি প্রমাণ এখনো নেই। ‘ব্ল্যাক হোল বম্ব’ তাই আপাতত একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ধারণা, যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরীক্ষাগারে যাচাই করা গেলেও মহাকাশে তার বাস্তব অস্তিত্ব এখনো অনুসন্ধানের বিষয়।

তথ্যসূত্র: Science Advances (2025); Physical Review D; European Physical Journal C (2026); University of Southampton; University of Glasgow.

© উপম বিকাশ | পেইজ এডমিন

রাস্তার গাড়ি কি কখনও কোনো প্রাণীর কাছে একটি ব্যাবহারিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র হয়ে উঠতে পারে? জাপানের সেন্দাই শহরে ক্যারিয...
23/08/2026

রাস্তার গাড়ি কি কখনও কোনো প্রাণীর কাছে একটি ব্যাবহারিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র হয়ে উঠতে পারে? জাপানের সেন্দাই শহরে ক্যারিয়ন কাকের আচরণ নিয়ে কয়েক দশকের পুরোনো এক গবেষণা এই প্রশ্নই সামনে এনেছিল। গবেষক ইয়োশিয়াকি নিহেই (Yoshiaki Nihei) লক্ষ্য করেছিলেন, কিছু কাক ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে থাকা গাড়ির চাকার সামনে আখরোট রেখে সরে যাচ্ছে। গাড়ি চলতে শুরু করলে চাকার নিচে বাদাম ভেঙে যাচ্ছে। তারপর গাড়ি চলে গেলে কাক ফিরে এসে ভাঙা বাদামের শাঁস খাচ্ছে। আচরণটি এত নিয়মিত ছিল যে এটিকে নিছক কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন মনে হয়েছিল। কিন্তু কাক কি সত্যিই গাড়িকে একটি যন্ত্র হিসেবে বুঝে ব্যবহার করছিল?

নিহেইর ১৯৯৫ সালের গবেষণায় এই আচরণ ২১ মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং ৪৩টি ঘটনা বিস্তারিতভাবে নথিবদ্ধ করা হয়। তাঁর বিশ্লেষণ ছিল, কাকেরা ইচ্ছাকৃতভাবেই গাড়িকে বাদাম ভাঙার কাজে ব্যবহার করছে। তবে এখানেই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তৈরি হয়। কোনো প্রাণী একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একই আচরণ বারবার করলেই কি ধরে নেওয়া যায় যে সে সেই আচরণের কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে মানুষের মতো ধারণা রাখে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেভিসে ড্যানিয়েল ক্রিস্টল (Daniel Cristol) ও তাঁর সহকর্মীরা আমেরিকান কাকের আচরণ পরীক্ষা করেন। ২০০টি গাড়ি উপস্থিত পর্যবেক্ষণ পর্বে তারা দেখেন, কোনো আখরোটই গাড়ির চাকায় পড়েনি। কাকেরা অনেক সময় রাস্তার মতো শক্ত পৃষ্ঠে বাদাম ফেলেছে, কিন্তু গাড়িকে লক্ষ্য করে আচরণ করার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গবেষকদের ধারণা ছিল, রাস্তা শক্ত হওয়ায় সেখানে বাদাম ফেলার অভ্যাসই হয়তো ঘটনাচক্রে গাড়ির চাকার সাহায্য নিচ্ছে।

তাহলে জাপানের কাকেরা কি ব্যতিক্রম? পরবর্তী গবেষণায় জাপানের হাকোদাতে ক্যারিয়ন কাকের আচরণও পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২০১৬ সালের পর্যবেক্ষণে ওসামু মিকামি (Osamu Mikami) ও তাঁর সহকর্মীরা দেখেন, সেখানকার কাকেরা সেন্দাইয়ের মতো গাড়ির সামনে বাদাম সাজিয়ে রাখে না। তারা বরং বিদ্যুতের তার বা উঁচু স্থান থেকে রাস্তার ওপর বাদাম ফেলে। গবেষকেরা এই আচরণকে সেন্দাইয়ের তুলনায় কম উন্নত বলে বর্ণনা করেন। এর পেছনে স্থানীয় পরিবেশ, শেখার ইতিহাস কিংবা বাদামের বৈশিষ্ট্যের মতো কারণ থাকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করেন।

এখানে আসল বৈজ্ঞানিক শিক্ষা কাকের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চমকপ্রদ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। একই প্রজাতির ভিন্ন জনগোষ্ঠী পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল শিখতে পারে। সেন্দাইয়ের ৪৩টি নথিবদ্ধ ঘটনা দেখায় যে গাড়িকে কাজে লাগানোর একটি অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধ আচরণ সেখানে বাস্তবেই ছিল। কিন্তু সেই আচরণের পেছনে কাকের মনে ঠিক কী ধরনের উপলব্ধি কাজ করেছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বরং এই গবেষণাই নতুন প্রশ্ন তৈরি করে: প্রাণীরা কতটা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে পরিবেশের তৈরি সুযোগকে চিনতে ও কাজে লাগাতে শেখে?

তথ্যসূত্র: Yoshiaki Nihei, Japanese Journal of Ornithology (1995); Daniel Cristol et al., The Auk (1997); Osamu Mikami et al., Journal of the Yamashina Institute for Ornithology (2019)।

© উপম বিকাশ | পেইজ এডমিন

Address

Pecharthal, Babutilla Area
Dharmanagar
799263

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Science News posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Science News:

Shortcuts

Share