25/12/2025
লেভেল ৩ পরীক্ষা শুরু থেকেই একটু অন্যরকম ছিল। এখানে মুখস্থ করলে চলবে না—নিজের মাথা খাটাতে হবে, বুঝে ভাবতে হবে। তাই শুরুতে অনেকের মনেই একটা চিন্তা ছিল, এত কঠিন হলে বাচ্চারা পারবে তো? কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরটা ওরাই দিয়ে দিয়েছে।
লেভেল ১ থেকে লেভেল ৩—প্রতিটা ধাপে পরীক্ষা কঠিন হয়েছে, আর যারা নিয়মিত লড়াইয়ে ছিল, তারা ধীরে ধীরে আরও শক্ত হয়েছে। দিয়া মণ্ডল লেভেল ১-এ পেয়েছিল ৭০ শতাংশ। লেভেল ২ দিতে পারেনি, তবু হাল ছাড়েনি। লেভেল ৩-এ ফিরে এসে, আরও কঠিন প্রশ্নের মধ্যেই তুলে এনেছে ৯৬ শতাংশ। অন্বেষা সাহা আবার একেবারে ধাপে ধাপে নিজেকে গুছিয়েছে—শেষ লেভেলে পেয়ে গেছে পুরো ১০০ শতাংশ। আর মোঃ রফিউল আলম শেখ—তিনটে লেভেলেই ১০০ শতাংশ। শান্ত, স্থির, কিন্তু দারুণ ফোকাসড।
লেভেল ৩ যে কতটা কঠিন ছিল, সেটা বোঝা যায় ফলেই। আগের লেভেলগুলোতে যেখানে প্রায় ৩০ জন টপার হয়েছিল, সেখানে এখানে টপার হয়েছে মাত্র দু’জন। মানে, এখানে ভালো হলেই চলবে না—ভালোভাবে ভাবতে জানতে হবে।
সবচেয়ে ভালো লাগার জায়গাটা হলো, এই বাচ্চাদের অনেকেই গ্রাম থেকে এসেছে। আগে সুযোগ কম ছিল, ভরসাও কম ছিল। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তারা আজ শহরের বাচ্চাদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের জায়গা তৈরি করছে। SLATO Exams তাদের সেই মঞ্চটা করে দিয়েছে।
ফল বেরোনোর দিন অনেক বাড়িতে চুপচাপ ছিল সবাই। কেউ বারবার নম্বর দেখছে, কেউ হালকা হেসে নিচ্ছে। অনেকের জীবনে এই প্রথম, একটা পরীক্ষা ওদের চোখে চোখ রেখে বলেছে—“তুই পারিস।”
এই কারণেই এই গল্প এখানেই শেষ নয়। নম্বর ভুলে যাবে সবাই, কিন্তু ওই বিশ্বাসটা—নিজের উপর বিশ্বাস—ওটাই থেকে যাবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে।