02/08/2026
ইতিহাসের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো ধর্ম, যা যুগ যুগ ধরে সভ্যতা গড়েছে, সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়েছে এবং মানুষকে জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। অনেকেরই ধারণা, আধুনিক যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসারের ফলে ধর্মের প্রভাব হয়তো ক্রমশ কমে আসছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঠিক এই সময়েই ইসলাম ধর্ম বিশ্বজুড়ে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করছে।
১৯৮৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি পঠিত পত্রিকা USA Today লিখল, “মুসলমানরা বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল গোষ্ঠী।” এই কথাটি কোনো মুসলিম পত্রিকা বা মসজিদের প্রচারপত্র থেকে আসেনি; এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যম থেকে। কিছুদিন পর, হিলারি রডহাম ক্লিনটন বললেন, “Islam is the fastest-growing religion in America, a guide and pillar of stability for many of our people…” বিবিসির মাইক উলড্রিজ রিপোর্ট করলেন, “Islam is the world’s fastest growing faith…” এই ধারাবাহিক বিবৃতিগুলো যেকোনো চিন্তাশীল মানুষের মনে একটি প্রশ্ন তুলে দেয়: কী এমন আছে এই ধর্মে, যা এত মানুষকে টেনে আনছে?
The Junior Encyclopedia of Canada সরাসরি লিখেছে, “Islam is the fastest growing faith in the world.” জর্জ সেল, যিনি কুরআনের অন্যতম প্রথম ইংরেজি অনুবাদক এবং মুহাম্মাদের প্রকাশ্য শত্রু ছিলেন, তিনিও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন, “…the law of Mohammed has met with so unexampled a reception in the world…” পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী ঔপন্যাসিক জেমস মিচেনার লিখলেন, “No other religion in history spread so rapidly as Islam.” The Economist জানাল, অনেক খ্রিশ্চিয়ান পণ্ডিতই পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে ২০৫০ সালের মধ্যে ইসলাম খ্রিশ্চিয়ান ধর্মকে ছাড়িয়ে যাবে। এমনকি National Geographic-এর জানুয়ারি ২০০২ সংখ্যায় বলা হলো, পৃথিবীর এক-পঞ্চমাংশ মানুষ ইসলাম অনুসরণ করে, এবং এটি “the fastest growing and perhaps the most misunderstood religion on earth.”
যখন এত বৈরী, নিরপেক্ষ এবং সম্মানিত উৎস থেকে একই সুর ভেসে আসে, তখন অবিশ্বাসী মনও একটি সত্যের সম্মুখীন হতে বাধ্য হয়।