11/10/2025
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বকে “স্থানের বিজয়” (the conquest of space) 1 দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, যেখানে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতা সৃষ্টি করেছে। অর্থনীতি তার মৌলিক নিয়মে বিশ্বাস করে যে জাতিগুলির মধ্যে পণ্যের আদান-প্রদান পারস্পরিক (mutual) হওয়া আবশ্যক; কোনো জাতি দীর্ঘমেয়াদে কেবল ক্রেতা বা কেবল বিক্রেতা থাকতে পারে না। কিন্তু সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে এই নির্মম অর্থনৈতিক নিয়মটি অনুপস্থিত 1।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে যে সভ্যতাগুলি “বেশি শক্তিশালী” (more virile) 1, তারা স্বভাবতই দুর্বল বা কম সক্রিয় সম্প্রদায়ের উপর একতরফা আকর্ষণ এবং প্রভাব বিস্তার করে। বর্তমানে পশ্চিম ও মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই গতিশীলতা স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য। মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে পশ্চিমা প্রযুক্তি, সাংগঠনিক পদ্ধতি এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ধারণার নিছক “ক্রেতা” হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু নিজেদের সাংস্কৃতিক ভিত্তি থেকে পশ্চিমে কোনো কার্যকর “ইতিবাচক প্রেরণা বিক্রি” করতে পারছে না 1।
এই পরিস্থিতি কেবল বাণিজ্যিক বা সামরিক দুর্বলতার ফল নয়, এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক মনোপসনি (একমুখী বাজারের আধিপত্য) তৈরি করেছে। যখন একটি সমাজ তার নিজস্ব ঐতিহ্যের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তখন সে কেবল অন্য সমাজের পণ্যই ক্রয় করে না, বরং তাদের বস্তুবাদের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে তোলে। সামরিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতা থেকে অর্থনৈতিক দুর্বলতা আসে, যা সমাজকে সাংস্কৃতিক ধারণার ক্রেতা বানিয়ে দেয়। এর ফলস্বরূপ, সমাজ নিজস্ব নৈতিক শক্তির ‘বিক্রয়’ করতে ব্যর্থ হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হয় আত্ম-পরিচয় ও সৃজনশীলতার অভাব। এটি মুসলিম সমাজের সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি করে। যদি মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন যে পশ্চিমা সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিয়ম গ্রহণ না করলে বিশ্বপ্রগতির সাথে তাল মেলা সম্ভব নয়, তবে তারা অনুকরণ ও হীনমন্যতার ফাঁদে পড়েন 1। অনুকরণ কেবল বাহ্যিক রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সেই রূপের অন্তর্নিহিত বস্তুবাদী ও ধর্ম-বিমুখ চেতনাকেও আমদানি করে, যা ইসলামের সামগ্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। এই একমুখী নির্ভরতা সাংস্কৃতিক আত্মহত্যার শামিল।